গাজীপুরের পূবাইলে গৃহবধূকে হত্যার পর ঘাতক স্বামী পলাতক
মোঃ জুয়েল পাঠান জেলা প্রতিনিধি//
গাজীপুরের পূবাইলে পারিবারিক কলহের জেরে আফসানা আক্তার স্নিগ্ধা (২১) নামের এক গৃহবধূকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো: আফসার মিয়া বাদী হয়ে পূবাইল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে নিহত গৃহবধূর স্বামী মেহেদী হাসান মারুফকে (২৪)-কে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস পূর্বে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রবাসী মেহেদী হাসান মারুফের সঙ্গে মো: আফসার মিয়ার বড় মেয়ে আফসানা আক্তার স্নিগ্ধা বিবাহবন্ধন হয়। পরবর্তীতে মারুফ দেশে ফিরে কাজীর মাধ্যমে নিকাহনামা সম্পন্ন করলেও তার পরিবার স্নিগ্ধা কে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পূবাইলের তালটিয়া মধ্যপাড়া এলাকার পারভীন বেগমের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি চিলেকোঠা ভাড়া নিয়ে প্রিয়াকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। বসবাসকালে প্রায়ই পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো এবং প্রিয়ার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত আটটার দিকে ছোট বোন সিনথিয়া মুঠোফোনে স্নিগ্ধার সাথে সর্বশেষ কথা হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে নিহতের বাসার ভাড়াটিয়া মো: শাহিন (২৬) বাদীর বাসায় এসে জানান যে, স্নিগ্ধাকে তার ভাড়াঘরের মেঝেতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে নিহতের পরিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায় যে, খাটের তোশকের ওপর প্রিয়ার মৃতদেহ শায়িত রয়েছে। এ সময় অভিযুক্ত স্বামী মেহেদী হাসান মারুফ ও তার পরিবারের লোকজন সমস্ত জিনিসপত্র নিয়ে সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
পরিবারের ধারণা, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত আটটা থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার যেকোনো সময়ে অভিযুক্ত স্বামী ও তার সহযোগীরা মিলে স্নিগ্ধাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে।
খবর পেয়ে পূবাইল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।