৫ আগস্ট স্মরণসভা: ছাত্র আন্দোলনের সাহস, ত্যাগ ও ভবিষ্যতের অঙ্গীকার
বিশেষ প্রতিনিধি /এম কে আবির
৫ আগস্ট আমাদের জাতীয় স্মৃতিতে এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দেশের ইতিহাসে ছাত্রসমাজ বারবার অন্যায়, বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে দাঁড়িয়েছে। তাদের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতি অঙ্গীকার নতুন প্রজন্মকে ন্যায়, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে।
আজকের এই স্মরণসভায় আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সেই সকল ছাত্রছাত্রীকে, যারা আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে নিজেদের সাহস, ত্যাগ ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি জানাই গভীর শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধা। একই সঙ্গে আহত, ক্ষতিগ্রস্ত এবং আন্দোলনের কঠিন সময় অতিক্রম করা প্রত্যেক মানুষের প্রতি জানাই আন্তরিক সহমর্মিতা।
ইতিহাস আমাদের শেখায় যে, পরিবর্তনের পথে ছাত্রসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ন্যায়বোধ, মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠাও শিক্ষারই অংশ। তাই যে কোনো মতভেদ বা দাবি-দাওয়া শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের সংস্কৃতি গড়ে তোলাই আমাদের সবার কাম্য।
আমরা বিশ্বাস করি, একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে তরুণদের চিন্তা, মেধা, সৃজনশীলতা এবং ইতিবাচক অংশগ্রহণ অপরিহার্য। বিভেদ নয়—ঐক্য; ঘৃণা নয়—সহমর্মিতা; প্রতিশোধ নয়—ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধই হোক আমাদের পথচলার ভিত্তি।
আজকের এই স্মরণসভা কোনো বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য নয়; বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎকে আরও সুন্দর, নিরাপদ এবং ন্যায়ভিত্তিক করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার জন্য। আমরা প্রত্যাশা করি, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জ্ঞান, যুক্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের পরিবেশে সমৃদ্ধ হবে।
আসুন, আমরা সবাই মিলে শপথ করি—
– আমরা সত্য, ন্যায় এবং মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করব।
– ভিন্নমতকে সম্মান করব এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তুলব।
– শিক্ষা, সততা ও দেশপ্রেমকে জীবনের মূল আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করব।
– যারা দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের স্মৃতির প্রতি সর্বদা সম্মান জানাব।
– ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করব।
সকল শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা।
তাঁদের স্মৃতি আমাদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়।
বাংলাদেশ হোক শান্তি, ন্যায়, মানবিকতা ও অগ্রগতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।