রাজপথের কর্মী বেনজীর রহমান রাজনীতির ইতিহাস
রাজনীতি শুধু পদ-পদবির পরিচয় নয়, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক পথচলা, কর্মীদের পাশে থাকা, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং প্রতিকূল সময়ে দায়িত্ব পালনও একজন রাজনৈতিক কর্মীর পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক বেনজীর রহমান খান পিন্টু নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে এমন কথাই তুলে ধরেছেন। সম্প্রতি জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনকে ঘিরে একই পরিবারের একাধিক প্রজন্মের জাতিসংঘের মঞ্চে উপস্থিতির বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে। বেনজীর রহমানের বক্তব্যে উঠে এসেছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘে বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গ। পাশাপাশি জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতির দপ্তরে জাইমা রহমানের আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, জাইমা রহমান ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতির দপ্তরের Executive Office- Legal Officer হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেনজীর রহমান গাজীপুর মহানগর যুবদল ও টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। বেনজীর রহমান বলেন, বিএনপির তৃণমূলের একজন কর্মী হিসেবে তিনি এ ঘটনাকে আনন্দের সঙ্গে দেখছেন। তার ভাষায়, একটি রাজনৈতিক পরিবারের বিভিন্ন প্রজন্মের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপস্থিতি কর্মীদের মধ্যে আবেগ ও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। ‘ভালোবাসার মানুষকে মূল্যায়ন করতে হয়’ রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি বেনজীর রহমান তার জীবনদর্শনের একটি দিক তুলে ধরতে একটি
প্রচলিত উপমা ব্যবহার করেন।
তিনি বলেন, “এক জাতের লতা আছে, বাইতে বাইতে উঠে গাছে। গাছ মরিলে লতাও মরে, তবুও লতা গাছ ছাড়ে না। তেমনি জীবন চলার পথে আমাদের প্রত্যেকেরই জানা-অজানার মধ্যে দু-একজন ভালোবাসার মানুষ থাকেন। তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে ন্যূনতম মূল্যায়ন করতে পারলে কাঙিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানো অনেক সহজ হতে পারে।”
তার বক্তব্যে মানুষের প্রতি আস্থা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘ পথচলায় পাশে থাকা ব্যক্তিদের মূল্যায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
কর্মসূচিতে সক্রিয় উপস্থিতি, এদিকে বিএনপির মানুষই লক্ষ্য কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে টঙ্গী পর্ব থানা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও বেনজীর রহমানের উপস্থিতির কথা দলীয় নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেছেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন অভিযোগের প্রতিবাদে আয়োজিত একটি বিক্ষোভমিছিলে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে অংশ নেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মসূচির শুরুতেই তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং মিছিল-মিটিংয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে থেকে সাংগঠনিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন। দলীয় কর্মসূচিতে তার ভূমিকা সম্পর্কে বেন বেনজীর রহমান বলেন, রাজনৈতিক কর্মীদের শুধু কর্মসূচির দিনে নয়, প্রতিকূল সময়েও একে অপরের পাশে থাকতে হয়। সংগঠনের সিদ্ধান্ত মেনে শৃঙ্খলার সঙ্গে কর্মসূচি পালন এবং কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ ধরে রাখাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। তার ভাষ্য, “দিন-রাত সবসময় দলের কর্মীদের পাশে থাকতে হবে। দলকে ভালোবেসে, জান-প্রাণ দিয়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
রাজপথ থেকে সংগঠনের ভেতরে, বেনজীর রহমান খান পিন্টুর রাজনৈতিক পথচলার সঙ্গে টঙ্গীর রাজপথ ও তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে বলে তার নিজের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়। ছাত্ররাজনীতি দিয়ে শুরু হওয়া এই পথচলায় তিনি বিভিন্ন সময়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের অভিজ্ঞতার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন। তার রাজনৈতিক দর্শনে একটি বিষয় বারবার গুরুত্ব পায়, রাজনীতি মানে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, সংগঠনের প্রতি দায়িত্ব এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও সাংগঠনিক সম্পর্ক ধরে রাখা। টঙ্গীর রাজনৈতিক অঙ্গনে তার কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকা। সমর্থকদের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে।
তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত
সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন
০১৮১৭৫১৭২৮৯