সাংবাদিক ক্লাবের সভাপতি আওলাদ হোসেনকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক//
দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও টঙ্গী সাংবাদিক ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, প্রায় ১৩ বছর আগে সাংবাদিক আওলাদ হোসেনের উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠে টঙ্গী সাংবাদিক ক্লাব। সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে অল্প সময়েই ক্লাবটি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সুনাম অর্জন করে। পাশাপাশি আওলাদ হোসেন “ইনফো টিভি” নামে একটি অনলাইন টেলিভিশন পরিচালনা করে আসছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির সরকারি নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়ে প্রক্রিয়াও অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।
এ সময় চট্টগ্রামের মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ইনফো টিভির সম্প্রচার ও কার্যক্রম সম্প্রসারণে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তার প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে টঙ্গী সাংবাদিক ক্লাবের ভবনে আধুনিক অফিস স্থাপন, এসি সংযোজন, ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ক্রয় ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ক্লাব ও ইনফো টিভির উন্নয়নে আওলাদ হোসেন ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করেন।
কিন্তু চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি গভীর রাতে টঙ্গী সাংবাদিক ক্লাব ও ইনফো টিভির অফিসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে অফিসের আসবাবপত্র, ক্যামেরা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ প্রায় সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় টঙ্গীসহ গাজীপুর ও উত্তরা অঞ্চলের সাংবাদিকদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
ঘটনার পর সাংবাদিক আওলাদ হোসেন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে সুস্থ হয়ে তিনি অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইজিপি, সিআইডি, দুদক, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, টঙ্গী পূর্ব থানা ও ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার বাসিন্দা মলি বেগম নামে এক নারী আওলাদ হোসেন ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি উকিল নোটিশ পাঠান। নোটিশে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়।
এ বিষয়ে আওলাদ হোসেন বলেন, “মলি নামে কাউকে আমি চিনি না, কখনও দেখিনি বা কথা হয়নি। এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আমার ধারণা, টঙ্গী সাংবাদিক ক্লাবের বিরোধী একটি চক্র কিংবা অন্য কারও ইন্ধনে এই মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর যেখানে সবাই সহযোগিতা করবে বলে আশা ছিল, সেখানে উল্টো মানসিক চাপ সৃষ্টি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
সাংবাদিক সমাজের অনেকেই এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা জানান, একজন সাংবাদিককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রয়োজনে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিষয়টি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে।
এদিকে, মলি বেগমের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মানহানির মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।