বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী-এর অসুস্থতায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে,বিএনপির নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজপথের লড়াই-সংগ্রামের সেই চেনা উত্তাপ নেই রাজধানীর নয়াপল্টনে। একসময় যে কার্যালয়টি ছিল বিএনপির আন্দোলন ও কৌশলের প্রাণকেন্দ্র, সরকার গঠনের পর সেখানে এখন বিরাজ করছে অন্যরকম এক নিস্তব্ধতা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নেতাকর্মীদের যে ভিড় আর স্লোগানে মুখর থাকত পুরো এলাকা, আজ সেখানে শুধুই শূন্যতা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কার্যালয়ের সামনে আগের মতো নেতাকর্মীদের জটলা নেই। নেই গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়মিত ভিড় কিংবা সিনিয়র নেতাদের ঘনঘন সংবাদ সম্মেলন। দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এখন অনেকটাই সুনসান। বিশেষ করে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অসুস্থ হওয়ার পর থেকে এই নিস্তব্ধতা আরও ঘনীভূত হয়েছে। দপ্তরের কাজ সামলানো এই নেতার অনুপস্থিতিতে যেন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে কার্যালয়টি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদের একটি বড় অংশ এখন নিজ নিজ এলাকায় সংগঠন গোছাতে বা রাষ্ট্রীয় নানা দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ফলে কেন্দ্রমুখী নেতাকর্মীদের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমেছে।
তবে এই নিস্তব্ধতাকে ভিন্ন চোখে দেখছেন তৃণমূলের কেউ কেউ। কার্যালয়ে আসা এক কর্মী আক্ষেপ করে বলেন, আগে বিপদের দিনে এই অফিসই ছিল আমাদের ঠিকানা। এখন ক্ষমতায় যাওয়ার পর সবাই যেন গা বাঁচিয়ে চলছেন। প্রবীণ বা ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন নিয়ে ভেতরে ভেতরে এক ধরনের চাপা অসন্তোষও তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক প্রভাবশালী নেতা জানান, দীর্ঘদিনের আন্দোলন শেষে দল এখন সরকার পরিচালনায় মনোযোগী। স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ওপর চাপ কিছুটা কমেছে। তবে দলের প্রাণ ভোমরা কর্মীদের সঙ্গে এই দূরত্ব দীর্ঘস্থায়ী হলে তা সংগঠনের জন্য শুভ হবে না বলেও মনে করেন তিনি।
রাজপথের সেই লড়াকু বিএনপির প্রধান কার্যালয়টি এখন অনেকটা আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার ভবনে পরিণত হয়েছে। নেতাকর্মীদের পদচারণায় আবার কবে এই এলাকা মুখর হবে, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।
https://shorturl.fm/AApuH
https://shorturl.fm/12yuu
https://shorturl.fm/eHtYU