উত্তরায় শিক্ষকের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ, প্রিয়াংকা সিটি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
৩ কোটি টাকার জমি ৩০ লাখে দিতে চাপ, প্রাণনাশের ভয়—অভিযোগ ভুক্তভোগীর
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশজুড়ে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যেই রাজধানীর উত্তরায় এক শিক্ষকের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রিয়াংকা সিটি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মোঃ ইসমাঈল হোসেন অভিযোগ করে জানান, তিনি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষক। ২০০৩ সালে তিনি রহমত আলীর কাছ থেকে উত্তরার বাইলজুরি মৌজায় দাগ নং ১০০৮২ অনুযায়ী ৩ কাঠা জমি ক্রয় করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন।
তিনি বলেন, “করোনাকালীন সময়ে দীর্ঘদিন এলাকায় না আসার সুযোগে প্রিয়াংকা সিটি কর্তৃপক্ষ আমার জমি দখল করে সেখানে ৬ তলা ভবন নির্মাণ করে ফেলেছে। এখন সেখানে লোকজন বসবাস করছে।”
ইসমাঈল হোসেন আরও জানান, জমির কাগজপত্র নিয়ে প্রিয়াংকা সিটির চেয়ারম্যান সজলের কাছে গেলে তিনি কোনো সহযোগিতা না করে উল্টো হুমকি দেন।
তার ভাষায়,
“আমার প্রায় ৩ কোটি টাকার জমি মাত্র ৩০ লাখ টাকায় দিতে চায়। রাজি না হলে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে—আর যেন কখনো না আসি।”
স্বরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অভিযোগকৃত জমির উপর ইতোমধ্যেই একটি ৬ তলা ভবন সম্পূর্ণ নির্মাণ করা হয়েছে এবং সেখানে মানুষ বসবাস করছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক দাবি করেন, পূর্ববর্তী রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি এতদিন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি।
তিনি বলেন,
“আমি একজন সাধারণ স্কুল শিক্ষক। প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো সক্ষমতা আমার ছিল না।”
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রিয়াংকা সিটির বিরুদ্ধে অবৈধ গ্যাস সংযোগ, ভূমি দখল, এবং রাজউকের নিয়ম বহির্ভূত ভবন নির্মাণসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত সজল অতীতে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রভাবশালী পদে ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলাও রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রিয়াংকা সিটির উত্তরা কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও সজলকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, অন্যথায় এ ধরনের দখলবাজি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।