বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
টঙ্গী সাংবাদিক ক্লাবের ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন চলনবিলে অবাঞ্ছিত কচুরিপানা যেন কৃষকদের গলার কাঁটাচলনবিলে ৫ হাজার হেক্টর জমি কচুরিপানায় নিমজ্জিত টঙ্গীতে তাহযীবুল হিরা মডেল মাদ্রাসায় নতুন বই বিতরণ টঙ্গীতে তাহযীবুল হিরা মডেল মাদ্রাসায় নতুন বই বিতরণ কাওরাইদ ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে বিএনপি’র অফিস উদ্বোধন । গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপ্তা গ্রামের কৃতি সন্তান এ এম স্বপন মাহমুদ সমাজ সেবায় কাজের ভূমিকা রেখে চলেছেন। সভাপতির বহিষ্কার দাবি নেতাকর্মীদের বিডি,আর,এম.জিপি এফ,এন,এফ ফাউন্ডেশনের ২০২৫ বর্ষের কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা ৫২, ৬৯, ৭১ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তে রঞ্জিত বাংলাদেশে জাতীয় বেঈমান রাজশাহীতে হিমাগারের ভাড়া কমালো
Notice :
"The Daily Dhakar Kagoj" (দৈনিক ঢাকার কাগজ) ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সংবাদপত্র যা প্রতিদিন প্রকাশিত হয়।

চলনবিলে অবাঞ্ছিত কচুরিপানা যেন কৃষকদের গলার কাঁটাচলনবিলে ৫ হাজার হেক্টর জমি কচুরিপানায় নিমজ্জিত

প্রতিনিধির নাম: / ১০৬ ভিউ:
আপডেট সময়: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ

 

কাবিল উদ্দিন কাফি সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ

মৎস্য ও শস্য ভান্ডার নামে খ্যাত দেশের সর্ববৃহৎ চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া উপজেলায় একমাত্র প্রধান ফসল বোরো ধান। বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা এ উপজেলার বিস্তৃত ফসলের জমিগুলো জেগে উঠেছে। অতীতের হিসাব অনুযায়ী শস্য ভান্ডারের এই উপজেলার কৃষকদের বীজতলা তৈরি, বীজতলায় পানি সেচ কিংবা বোরো ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুতে ব্যস্ত থাকার কথা। কিন্তু এ বছর দীর্ঘ এবং অসময়ের বন্যার কারণে ছোট বড় মাঠগুলোতে উজান থেকে ভেসে আসা অবাঞ্ছিত আগাছা ও কচুরিপানা কৃষি জমিতে জমে থাকার কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এই উপজেলার পাঁচ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান চাষ ও বীজতলা তৈরি।

জমি প্রস্তুত তো দূরের কথা কচুরিপানা পরিষ্কারে দিশেহারা এই উপজেলার অনেক কৃষক।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের রাখালগাছা, বজরাহার, চৌগ্রাম সিংড়া পৌর এলাকার উত্তর ও দক্ষিণ দমদমা হিয়ালা বিল, ডাহিয়া, পাঁড়িল, কাউয়াটিকরি, বেড়াবাড়ি, গাড়াবাড়ি, সরিষাবাড়ী, সাঁতপুকুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার জমিগুলোতে জমে আছে কচুরিপানা।

সিংড়া উপজেলার ছোট বড় খালগুলো বর্ষার শুরু থেকে বাঁশের বানা দিয়ে বেড়া দেয়ার কারণে কচুরিপানার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।

এ বছর কচুরিপানা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যেসব জমিতে হালকা কচুরিপানা রয়েছে সেগুলো পরিষ্কার করতে ৫ হাজার টাকা এবং বেশি কচুরিপানা জমে থাকা জমিগুলো পরিষ্কার করতে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।

তাই কৃষকরা ব্যয়ের কথা চিন্তা করে অনেকে এ বছর বোরো ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। উপজেলার হিয়ালা বিলের অন্তত ২০০ হেক্টর জমি এবার অনাবাদি থাকবে কচুরিপানার কারণে। ওই জমিগুলোতে যে পরিমাণ কচুরিপানা আটকে গেছে তা পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। কচুরিপানা দ্রুত পরিষ্কার করার জন্য কৃষকরা জমিতে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ও বিষ প্রয়োগ করছে এতে কোন ধরনের উপকার আসছে না শুধু অর্থের ব্যয় ছাড়া।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর ৫ হাজার হেক্টর জমিতে কচুরিপানা জমে আছে। যা পরিষ্কার করতে জমি ভেদে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।

ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানান, জমি পরিষ্কারে শ্রমিকের চাহিদা থাকায় মজুরি বেড়েছে অনেক। প্রতিদিন একটি শ্রমিককে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে যা কৃষকদের মরার উপর খাড়ার ঘা এর মত।

সিংড়া পৌর এলাকার কৃষক মোহাম্মদ রুবেল হোসেন বলেন, তার বর্গা নেয়া ৬০ বিঘা জমিতে এমনভাবে কচুরিপানা আটকে গেছে যা পরিষ্কার করে জমি বোরো ধান চাষের উপযোগী করতে বিঘাপ্রতি অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা ব্যয় করতে হবে তাই তিনি এ বছর বোরো ধান চাষ করবেন না বলে ঠিক করেছেন।

কীটনাশক পরিবেশ-প্রকৃতি ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর জানার শর্তেও জমিতে কৃষকরা বিষ প্রয়োগ করছেন এ ব্যাপারে ডাহিয়া ইউনিয়নের কাউয়াটিকরি গ্রামের কৃষক তানজিল হোসেন বলেন, কীটনাশক বিষ অনেক ক্ষতিকর জানা সত্ত্বেও দ্রুত যেন জমির কচুরিপানা পচিয়ে দেয়া যায় এজন্য বিষ ব্যবহার করছি কিন্তু তাতে কোন কাজ হচ্ছে না। শুধু অর্থের অপচয়। কচুরিপানার কারণে এ বছর জমি পরিষ্কার করতে না পারায় অনেক কৃষক বীজতলা তৈরি করতে পারেনি। আর যারা করেছে তাদের অনেক টাকা গুনতে হয়েছে।

দক্ষিণ দমদমা গ্রামের আজিজ সরদার বলেন, আমার মাত্র এক বিঘা জমি কচুরিপানার কারণে অনাবাদি রাখতে হবে। সারাবছর আমার এক বিঘা জমির ধান দিয়ে খেয়ে পড়ে বাঁচি। ধান না হলে কি করে আগামী বছর চলবে চিন্তা করলে চোখ থেকে পানি পড়ে। কচুরিপানা পরিস্কারে কৃষকরা নানা উদ্যোগ নিলেও তা কোন কাজে আসছে না।

সাঁতপুকুরিয়া গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম আলী জানান, কচুরিপানার কারণে বিঘাপ্রতি ১০-১২ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এ বছর বোরো আবাদে আমাদের অনেক লোকসান গুনতে হবে।

একই গ্রামের কৃষক ইকবাল হোসেন বলেন, কচুরিপানার কারণে আমাদের বীজতলা এখন পর্যন্ত প্রস্তুত করতে পারিনি। আবার কচুরিপানা পরিষ্কার করতে বিঘাপ্রতি ৫-৭ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। সব দিক থেকে আমরা বিপদে আছি।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রতিবছর সিংড়া উপজেলার মাঠগুলোতে বর্ষাকালে যে পরিমাণ কচুরিপানা ও আগাছা জন্ম নিচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পুরো বিল কচুরিপানা গ্রাস করে নেবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ জানান, পরপর তিনবার বন্যা হওয়ার কারণে জমিতে কচুরিপানা আটকে যাওয়ায় এ উপজেলায় কৃষকদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে কচুরিপানা আটকে আছে। এসব কচুরিপানা অপসারণ করতে বিঘাপ্রতি গড়ে ৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে কৃষকদের। উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে আমরা চেষ্টা করছি আগামী বছর থেকে যেন কচুরিপানা জমিতে আটকে না যায়, সেজন্য সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর